• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :

থানা চত্ত্বরে কাঁদছিলেন নির্যাতিত গৃহবধু শাহীন

সিসি নিউজ।। পারিবারিক সম্মতিতে প্রায় ১৮ বছর আগে সালে শাহীন পারভীনের বিয়ে হয়েছিল সৈয়দপুরের শিল্পপতি পারভেজ আলমের সাথে। বিয়ের তিন বছরের মাথায় শাহিনের কোলজুড়ে আসে দুই ছেলে সন্তান। স্বপ্নের মতই রঙিন কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর তছনছ হয়ে যায় তাঁর সাজানো সংসার। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও চার তলা বাড়ি দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন স্বামীর পরিবার। শুরু হয় শারিরিক ও মানষিক নির্যাতন।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার শাহীন পারভীনকে বাসার ভেতরে ও প্রকাশ্যে সড়কে প্রহার করে ভাসুরের ছেলে-মেয়ে ও জামাতা। এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের নয়াবাজার এলাকায়।

ওইদিন দুপুরে শাহীন পারভীনকে আহত অবস্থায় তাঁর দুই ছেলে থানায় নিয়ে এলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতরণ হয়। তাঁর নির্যাতিত জীবনের গল্প শুনে সেখানে উপস্থিত পুলিশ, সাংবাদিক ও সেবা নিতে আসা অনেকে চোখের জল ফেলেন।

শাহীন পারভীন জানান, তাঁর স্বামী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পারভেজ আলমের ছিলেন তাঁর পরিবারের মূল উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়ে পুরো সংসার চলতো। ব্যবসা ও পারিবারিক সম্পত্তির সবই তার উপর্জনে করা। গত ২০১০ সালে স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু হয়। তাঁর মুত্যুর পর শ্বশুড় খোরশেদ আলম, ভাসুর জমসেদ আলম, ভাসুরের ছেলে নুর আলম, মেয়ে ফাতেমা আক্তার বুবলী ও কায়কেসা জামসেদ এবং জামাতা শাহনেওয়াজ সাজু আর ভাসুরের বড় মেয়ের স্বামী বদরুদ্দোজা সম্পত্তি কুক্ষিগত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ব্যাবসা ও বাড়ি দখলে নিতে তাকে বারবার সন্তানসহ বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। এর প্রতিবাদ করলে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বিচার সালিশও হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সোমবার সকালে বাড়ির গ্যারেজ দখলে নিতে তার ব্যবহৃত গাড়িটি রাস্তায় ফেলে রাখে। এর প্রতিবাদ করলে ভাসুরের ছেলে নুর আলম, মেয়ে ফাতেমা বুবলী ও তার স্বামী শাহনেওয়াজ খান সাজু তাকে রাস্তায় ফেলে নির্যাতন করেন। এ সময় এলাকাবাসী এসে তাকে উদ্ধার করে। ছেলে নুরে এলাহি ইব্রাহিম ও নুর ইসাহাক সহায়তায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে থানায় গিয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ দেন। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেন ভাতিজি ফাতেমা আক্তার বুবলী।

তিনি সিসি নিউজকে বলেন, চাচী শাহীন পারভীনের পছন্দ মতো অংশটুকু বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও আমাদের নিজস্ব জায়গায় ইটের দেয়াল নির্মাণ কাজে বাধা দেন তিনি। এ সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনি ও তার বোন আহত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট এলাকার পৌর কাউন্সিলর এরশাদ হোসেন পাপ্পু জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ চলমান। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠক হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবারো দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তারা।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আখতার হোসেন সিসি নিউজকে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ